একটানা কম্পিউটারে কাজ করলে চোখের যত্ন নেওয়ার ১২ টি টিপস
বর্তমান সময়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মোবাইল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে গেছে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী ও অফিসে কাজ করা মানুষদের দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকতে হয়। একটানা স্ক্রিন দেখলে চোখে ক্লান্তি, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা বা মাথাব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে।তাই কাজের পাশাপাশি চোখের যত্ন নেওয়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আরো পড়ুন-বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
পেজ সূচিঃচোখের যত্ন নেওয়ার ১২ টি টিপস
- কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় কাজ করলে চোখে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে
- সঠিক আলো ও কম্পিউটারের অবস্থান ঠিক রাখা
- ব্লু লাইট প্রটেক্টেড গ্লাস ব্যবহারের সুবিধা
- চোখের শুষ্কতা দূর করতে রিফ্রেশিং ড্রপ
- ফ্রিল্যান্সারদের চোখের ব্যায়াম ও ২০-২০-২০ নিয়ম
- স্ক্রিন টাইম কমানোর প্র্যাকটিক্যাল উপায়
- ডার্ক মোড ব্যবহার করলে চোখের উপকারিতা
- কাজের মাঝে চোখকে নিয়মিত বিশ্রাম দিন
- পর্যাপ্ত ঘুম ও চোখের যত্ন
- চোখের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের গুরুত্ব
- নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো কেন জরুরি
- শেষ কথা - কম্পিউটারে কাজের সময় চোখ ভালো রাখার
কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় কাজ করলে চোখে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে
অনেকক্ষণ কম্পিউটার বা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।চোখ জ্বালা করা, পানি পড়া, শুষ্ক লাগা কিংবা কিছুক্ষণ ঝাপসা দেখাও হতে পারে।দীর্ঘ সময় কাছ থেকে স্ক্রিন দেখার কারণে চোখের পেশিতে ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
অনেক সময় এর সঙ্গে ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা এবং মাথাব্যথাও দেখা দিতে পারে।তাই কাজের সময় শুধু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেই হবে না, চোখকেও বিশ্রাম দিতে হবে।নিয়মিত বিরতি নেওয়া চোখের আরাম বজায় রাখার একটি সহজ উপায়।
সঠিক আলো ও কম্পিউটারের অবস্থান ঠিক রাখা
স্ক্রিনের লেখা খুব ছোট হলে চোখ কুঁচকে না দেখে লেখার আকার বাড়িয়ে নেওয়া ভালো।স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ঘরের আলোর সঙ্গে মিলিয়ে রাখার চেষ্টা করা যায়।এসব ছোট পরিবর্তন দীর্ঘ সময় কাজের সময় চোখের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ব্লু লাইট প্রটেক্টেড গ্লাস ব্যবহারের সুবিধা
অনেকেই দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করার সময় ব্লু লাইট প্রটেক্টেড গ্লাস ব্যবহার করেন।এ ধরনের চশমার লেন্স স্ক্রিন থেকে আসা নির্দিষ্ট ধরনের নীল আলোর কিছু অংশ কমাতে পারে।তবে ব্লু লাইট গ্লাস চোখের সব ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ করে এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
তাই শুধু এই গ্লাস ব্যবহার করলেই চোখের যত্ন সম্পূর্ণ হয়ে যায় না। সঠিক আলো, নিয়মিত বিরতি এবং স্ক্রিন দেখার ভালো অভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। চোখে পাওয়ার বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে নিজের মতো চশমা না কিনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
চোখের শুষ্কতা দূর করতে রিফ্রেশিং ড্রপ
দীর্ঘ সময় স্ক্রিন দেখার সময় আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় কম চোখের পলক ফেলতে পারি। এর ফলে চোখ শুষ্ক, খসখসে বা জ্বালাপোড়া করার মতো অনুভূতি হতে পারে। প্রয়োজনে সাধারণ কৃত্রিম অশ্রু বা লুব্রিকেটিং আই ড্রপ চোখের শুষ্কতায় আরাম দিতে পারে।
আরো পড়ুন- আরও গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস।
ফ্রিল্যান্সারদের চোখের ব্যায়াম ও ২০-২০-২০ নিয়ম
ফ্রিল্যান্সারদের অনেক সময় টানা কয়েক ঘণ্টা ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে কাজ করতে হয়। এ কারণে কাজের মাঝখানে চোখকে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।সহজ একটি নিয়ম হলো ২০-২০-২০ নিয়ম-প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকানো।
এতে কাছের স্ক্রিন থেকে চোখের ফোকাস কিছুক্ষণের জন্য দূরে নেওয়া হয়। কাজের মাঝে কয়েকবার চোখ বন্ধ করে আরাম করাও ভালো অভ্যাস হতে পারে। তবে চোখে ব্যথা বা দৃষ্টির সমস্যা থাকলে নিজে কোনো ব্যায়াম না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্ক্রিন টাইম কমানোর প্র্যাকটিক্যাল উপায়
কম্পিউটারে কাজ করার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার কমানোও চোখের বিশ্রামের জন্য ভালো অভ্যাস।কাজ শেষ হওয়ার পর অকারণে দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ভিডিও দেখার অভ্যাস কমানো যেতে পারে।প্রয়োজন ছাড়া একসঙ্গে মোবাইল ও কম্পিউটার দুটো স্ক্রিন ব্যবহার না করাই ভালো।
কাজের সময় ছোট ছোট বিরতি নিয়ে অন্যদিকে তাকানো যেতে পারে।একটানা কয়েক ঘণ্টা কাজ না করে কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করলে বিরতি নেওয়া সহজ হয়। এভাবে ধীরে ধীরে স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চোখকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া সম্ভব।
ডার্ক মোড ব্যবহার করলে চোখের উপকারিতা
অনেক কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহারকারী চোখের আরামের জন্য ডার্ক মোড ব্যবহার করেন। ডার্ক মোডে সাধারণত গাঢ় ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর হালকা লেখা দেখা যায়। কম আলোযুক্ত পরিবেশে এটি অনেকের কাছে তুলনামূলক আরামদায়ক মনে হতে পারে।
তবে ডার্ক মোড চোখের ক্ষতি প্রতিরোধ করে বা দৃষ্টিশক্তি ভালো করে এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। যে মোডে নিজের চোখে বেশি আরাম লাগে, সেটিই ব্যবহার করা যেতে পারে। লেখা পড়তে সমস্যা হলে ফন্টের আকার ও স্ক্রিনের উজ্জ্বলতাও ঠিক করে নেওয়া উচিত।
কাজের মাঝে চোখকে নিয়মিত বিশ্রাম দিন
কম্পিউটারে কাজ করার সময় চোখের বিশ্রাম নেওয়া খুব সহজ হলেও আমরা অনেক সময় বিষয়টি ভুলে যাই। একটানা কাজ করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময় পরপর কয়েক মিনিটের বিরতি নেওয়া যেতে পারে। বিরতির সময় কম্পিউটার থেকে চোখ সরিয়ে দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকানো ভালো।
চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ বসে থাকলেও অনেকের চোখে আরাম অনুভূত হতে পারে। বিরতির সময় আবার মোবাইলের স্ক্রিন দেখলে চোখের বিশ্রাম তেমন কার্যকর নাও হতে পারে।তাই বিরতিতে সম্ভব হলে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকাই ভালো।
পর্যাপ্ত ঘুম ও চোখের যত্ন
চোখের আরাম ও শরীরের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব অনেক। রাতে দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার করলে ঘুমের সময় পিছিয়ে যেতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করা ভালো।
প্রতিদিন একটি নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি মেনে চললে শরীর ও মন দুটোই উপকৃত হতে পারে। দিনের কাজের পাশাপাশি রাতে চোখকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়াও প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা সারাদিন কম্পিউটারে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস।
চোখের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের গুরুত্ব
শুধু বাইরের যত্ন নয়, প্রতিদিনের খাবারের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ, ডিম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে। ভিটামিন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যাপ্ত পানি পান করাও শরীরের স্বাভাবিক পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেলেই চোখের সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে এমন ধারণা ঠিক নয়। সুষম খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত জীবনযাপন ও প্রয়োজনীয় চোখের পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো কেন জরুরি
প্রয়োজনে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে চোখ পরীক্ষা করানো ভালো। যাদের চশমা ব্যবহার করতে হয়, তাদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী চোখের পাওয়ার পরীক্ষা করা দরকার। নিজের ইচ্ছায় চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করা উচিত নয়। সময়মতো চোখ পরীক্ষা করালে অনেক সমস্যার কারণ সম্পর্কে জানা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।
আরো পড়ুন-চোখকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দিন
শেষ কথা - কম্পিউটারে কাজের সময় চোখ ভালো রাখার
*চোখ সুস্থ রাখতে প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার খান
*পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে চোখকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দিন
*কম্পিউটারে কাজের সময় পর্যাপ্ত ও সঠিক আলো রাখুন
* দীর্ঘ সময় স্ক্রিন দেখার মাঝে চোখকে নিয়মিত বিরতি দিন
*চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সচেতন থাকুন
* অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহারের সময় কমিয়ে আনুন
চোখ আমাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ তাই কাজের পাশাপাশি চোখের যত্ন নেওয়াও আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ হওয়া উচিত।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করলে চোখে কী সমস্যা হতে পারে?
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে ক্লান্তি, শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া বা ঝাপসা দেখার মতো অস্বস্তি হতে পারে। নিয়মিত বিরতি নিলে এসব সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
২০-২০-২০ নিয়ম কী?
২০-২০-২০ নিয়ম হলো প্রতি ২০ মিনিট পর প্রায় ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকানো। এতে স্ক্রিন থেকে চোখের ফোকাস কিছু সময়ের জন্য দূরে নেওয়া হয়।
কম্পিউটার থেকে কত দূরে বসে কাজ করা ভালো?
সাধারণভাবে স্ক্রিনকে চোখ থেকে আরামদায়ক দূরত্বে রাখা উচিত। খুব কাছে বসে কাজ না করে এমন দূরত্ব রাখুন, যাতে লেখা পড়তে চোখে চাপ না পড়ে।
ব্লু লাইট গ্লাস ব্যবহার করলে কি চোখ ভালো থাকে?
ব্লু লাইট গ্লাস কিছু মানুষের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে, তবে এটি চোখের সব সমস্যা প্রতিরোধ করে না। চোখের যত্নের জন্য বিরতি নেওয়া ও সঠিকভাবে স্ক্রিন ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
চোখ ভালো রাখতে কী ধরনের খাবার খাওয়া উচিত?
সবুজ শাকসবজি, মাছ, ডিম, ডাল, বাদাম ও বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও শরীরের স্বাভাবিক পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।



dreamy amisha নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url